আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : আযারবাইজান সরকারের ধর্ম বিষয়ক পরিষদ মসজিদসমূহের উদ্দেশ্যে বলেছে যে, জুমআর নামায শনিবারে অনুষ্ঠিত হোক।
ধর্ম বিষয়ক পরিষদের এ পরামর্শ, এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ পূর্ব অপেক্ষা নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি করবে।
ধর্ম বিষয়ক পরিষদ এ পরামর্শ প্রদানের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছে যে, যেহেতু আযারবাইজানে শুক্রবার দিনটি সপ্তাহের কাজের দিনের অন্যতম এবং জুমআর নামায আদায় কাজের ব্যাঘাত ঘটায়, তাই শনিবারে জুমআর নামায আদায় করা উচিত।
আযারবাইজান সরকারের ধর্ম বিষয়ক পরিষদ এ পরামর্শ বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে; এমনভাবে যে, তারা গত সপ্তাহে মাশহাদী দাদাশ মসজিদে বিশেষ নোটিশ প্রেরণ করেছে।
উক্ত নোটিশে মসজিদের বাইরে জুমআর নামায আদায় করা হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
উক্ত মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব শাহিন হাসান আলী’র বক্তব্য অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহের শুক্রবারে ‘মাশহাদী দাদাশ’ মসজিদে ২ থেকে আড়াই হাজার মুসল্লি একত্রে জুমআর নামায আদায় করে।
আযারবাইজান সরকারের ধর্ম বিষয়ক পরিষদের ধর্মীয় সংগঠন বিষয়ক বিভাগের প্রধান ‘গুন্দুয ইসমাইলোভ’ বার্তা সংস্থা ‘আপায়’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন : মুসুল্লিদের উচিত মসজিদ অভ্যন্তরে নামায আদায় করা।
বাস্তবতার সাথে এ পরামর্শের কোন মিল নেই। কেননা এ নামাযের নামই হচ্ছে জুমআর নামায। এ নামাযকে শনিবার দিন পড়ার পরামর্শ দেয়ার বিষয়টি পরামর্শদাতার মূর্খতাকে প্রমাণ করে, অথবা ধর্মীয় বিষয়ে এদেশে সৃষ্টি বিপর্যয়কে গুরুতর করে তুলতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেননা সম্প্রতি ধর্মভিরুদের গ্রেপ্তার, মসজিদ ধ্বংস করা, হিজাবের উপর নিষিদ্ধাজ্ঞা আরোপে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ক্ষুব্ধ।
আযারবাইজান সরকার কর্তৃক ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে জুমআর নামায শনিবার দিন পড়তে বাধ্য করার অর্থ হচ্ছে সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, আযারবাইজানের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগ লোক মুসলমান। কিন্তু বেশ কিছুকাল যাবত আযারবাইজান সরকার জায়নবাদী ইসরাইল ও এদেশের ইসলাম বিরোধীদেরকে কাছে টানছে এবং মসজিদসমূহ ধ্বংস ও ধর্মভিরুদেরকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামের মোকাবেলায় উঠে দাঁড়িয়েছে, যা এ দেশের মুসলমানদেরকে তীব্র প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছে।#